হবিগঞ্জে হত্যা মামলায় পলাতক ৫ আসামি গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক জায়দুল মিয়া হত্যা মামলায় পলাতক আরও পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বানিয়াচং উপজেলার মন্দুরী গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্লাহর ছেলে বদির মিয়া (৪৪) ও শামিম মিয়া (৪০), সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাহীন মিয়া (৩০), তাইদুল মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৩৫) এবং বছর উদ্দিনের ছেলে নূর আলম (৩৫)।
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, নিহত জায়দুল মিয়া ও মামলার আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে জায়দুল মিয়া মুতি মিয়ার কাছ থেকে একখণ্ড জমি কেনেন। ওই জমি মজিদ খান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে জায়দুলের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে আসামিরা গোপন বৈঠক করে জায়দুল মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে জায়দুল মিয়া মন্দুরী গ্রামের বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মজিদ খানের বাড়ির দক্ষিণ পাশের বড় রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা তাকে ঘিরে ফেলেন। আসামি সরোয়ার আলম খানের নির্দেশে অন্যরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জায়দুল মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। জায়দুলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় জায়দুলকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল এসআরবি-৯।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ৮টার দিকে এসআরবি-৯-এর একটি দল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজনগর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হবিগঞ্জ এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এর দুদিন আগে একই মামলার ৯ নম্বর আসামিকেও গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৯। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
