গাড়িচাপায় শিশুর মৃত্যুর পর এমপি শোক জানালেন ফেসবুকে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের বহরে থাকা একটি গাড়ির চাপায় খালেদ বিন ওয়ালিদ নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। ৮ বছরের সন্তানকে হারিয়ে কান্না থামছে না মায়ের। অন্যদিকে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে বাবা ফিরেছেন দুবাই থেকে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী আহমেদ কবির ঘাটা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ফেসবুকে পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংসদ সদস্য নিজে।
জানা গেছে, ৮ বছর বয়সী মো. খালেদ বিন ওয়ালিদকে তার মা দোকানে কলা আনতে পাঠিয়েছিলেন। পথিমধ্যে বদরখালীর আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিল ওয়ালিদ। এসময় কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের বহরে থাকা একটি গাড়ি ওয়ালিদকে চাপা দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওয়ালিদের মৃত্যু হয়েছে।
ওয়ালিদ বদরখালী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের তেচ্ছাপাড়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী আমান উল্লাহ ও সুমাইয়া বেগম দম্পতির সন্তান। সে স্থানীয় একটি নুরানী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এদিকে সন্তানকে হারিয়ে মা সুমাইয়া আক্তারের কান্না কোনো ভাবেই থামছে না। স্বজনেরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বারবার বলছিলেন, ‘আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে, আমি বিচার চাই। আমার ছেলেকে চাপা দিয়ে কিছু রাখেনি।’
ওয়ালিদের বড় চাচা নুরুল ইসলাম ড্রাইভার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ছেলের মৃত্যুর খবর শুনেই তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট কাটেন তার বাবা। এরপর দুবাই থেকে রাতের ফ্লাইটে চড়ে সোমবার ভোরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন এবং সকালে বাড়ি পৌঁছান ওয়ালিদের বাবা আমান উল্লাহ। বাড়ি পৌঁছার পর ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।’
নিহতের নিকটাত্মীয় তোফাইল ইসলাম ফরহাদ জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জোহরের নামাজের পর স্থানীয় তেচ্ছাপাড়া জামে মসজিদে জানাজা শেষে ওয়ালিদকে দাফন করা হবে।
এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। তিনি লিখেছেন, ‘বিকেলে কুতুবদিয়া সফর শেষে ফেরার পথে বদরখালী এলাকায় আমার গাড়ির পেছনে থাকা একটি গাড়ির মাধ্যমে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুর অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও লিখেন, ‘ঘটনার সময় আমার গাড়ি দূরে থাকলেও সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান রাব্বুল আলামিন শিশুটিকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, আমিন।’
এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এমপির গাড়িবহরে থাকা মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েল বলেন, এমপিকে বহনকারী গাড়িটি স্বাভাবিক নিয়মে বহরের সামনের দিকে ছিল। পেছনের একটি গাড়ি শিশুটিকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।
গাড়িবহরে থাকা সাংবাদিক ফারুক ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনায় শিশুটি মারাত্মকভাবে আহত হলে ক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। এসময় নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয়রা এমপিকে গাড়ি থেকে নামতে দেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এমপিকে বহনকারী গাড়িটি বদরখালী সেতুর ওপারে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। রাতে ওয়ালিদকে চাপা দেওয়া গাড়িটি বদরখালী থেকে জব্দ করেছে পুলিশ। চালক পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। কোনো মামলা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।