logo

মাদারীপুরে ভিক্ষুকের ঘরের সিঁধ কেটে চুরি

মাদারীপুরে ভিক্ষুকের ঘরের সিঁধ কেটে চুরি
কালকিনি উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জলিলের ঘরে সিঁধ কেটে চাল ও জমানো টাকা চুরি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুকের ঘরে সিঁধ কেটে চাল ও জমানো টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ১০ বছর ধরে পঙ্গুত্ব নিয়ে লাঠিতে ভর করে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তার শেষ সম্বলটুকু চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারের চর এলাকার বেপারীকান্দির গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর এলাকার বেপারীকান্দির বেপারীবাড়িতে বসবাস করেন আব্দুল জলিল। তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারে ঘুরে মানুষের কাছে ৫ থেকে ১০ টাকা চেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কখনো মানুষের দেওয়া সামান্য অর্থে খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেও দিন কাটে তার। ভিক্ষা করে পাওয়া চাল ও সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে নিজের ছোট্ট ঘরে রাখতেন জলিল।

প্রতিদিনের ন্যায় রোববার রাতে জলিল ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে পেছনের অংশ দিয়ে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ভিক্ষা করে জমানো চাল ও সামান্য টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন জলিল। নিজের কষ্টে জমানো শেষ সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর কান্না ও অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আব্দুল জলিল বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ভিক্ষা কইরা যোগাই ছিলাম মানুষের কাছ থেকে এনে সব লইয়া গেছে। আমি এখন বাঁচবো কেমনে। আল্লাহ তুমি আমারে বাঁচাও! যারা আমার এগুলো নিছে তুমি তাগো বিচার করো। আল্লাহ তুমি ছাড়া আমার কেউ নাই।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, যে মানুষটি প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করে খাবার জোগাড় করেন, তার ঘরেও চুরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন অসহায় মানুষের সামান্য সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়া অমানবিক কাজ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন ও আফসানা আফরোজ বলেন, যারা ভিক্ষুকের ঘরে চুরি করে তারা তো আসলে মানুষ না মানুষ নামে পশু এ সব পশুর বিচার হওয়া দরকার। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারক তদন্ত চাই।

এ ঘটনায় কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমরা আপনার মাধ্যমে শুনেছি। ঘটনাস্থানে পুলিশ পাঠাব অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।