logo

দখল-দূষণে ভরাট হচ্ছে মাটিরাঙ্গার ধলিয়া জলাশয়

দখল-দূষণে ভরাট হচ্ছে মাটিরাঙ্গার ধলিয়া জলাশয়
বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে জলাশয়ের একাংশ। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌর শহরে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পাড়ে অবৈধ দখল ও বর্জ্যের দূষণে ভরাট হচ্ছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা পৌর শহরের ধলিয়া জলাশয়। উপজেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন পৌর শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া এই জলাশয়টি রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, জলাশয়ের দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে বহু জনবসতি ও দোকান। সেগুলো থেকে নিয়মিত ময়লা ফেলা হয়। দূষিত হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পানি।

স্থানীয়রা জানান, পৌর শহরে অগ্নিনির্বাপনে একমাত্র পানির উৎস ছিল এই জলাশয়। জলাশয়টি আগে মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র ছিল। এখন মশা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পানির কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অবৈধ দখলের পাশাপাশি আশপাশের হোটেল ও বসতবাড়ির ময়লা এবং পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য ফেলায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আবুল হাশেম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আগে এই জলাশয়ের পানি ও পরিবেশ অনেক সুন্দর ছিল। প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পানি কালো হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে জলাশয়ের পাশে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মশা-মাছির প্রজননের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দ্রুত জলাশয়টি পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।

বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে জলাশয়ের একাংশ। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌর শহরে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে জলাশয়ের একাংশ। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌর শহরে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আলী আক্কাস বলেন, জলাশয়ের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়েছে। আগে জলাশয়ের পাড়ে পানি ব্যবহারের ঘাটলা ছিল। বর্তমানে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ময়লার কারণে পানি সংগ্রহের কোনো সুযোগ পায় না ফায়ার সার্ভিস। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার। জলাশয়টি উদ্ধার করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে মাটিরাঙ্গার মানুষ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি এটি একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পরিদর্শক হারুন মিঞা বলেন, মাটিরাঙ্গা জোনে আইনশৃঙ্খলা সভায় আমরা জলাশয় দখলের বিষয়টি অবগত করেছি। গত তিন বছর আমি মাটিরাঙ্গা স্টেশনে থেকে এই জলাশয়ের পানি ব্যবহারের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে গিয়ে কোনো ফলাফল পাইনি। আগুন লাগলে নির্বাপনে আমরা যে পানি সংগ্রহ করব, কোনো উপায় নেই। পুরো জলাশয়টি দখলে সংকুচিত হয়ে আবর্জনায় ভরে গেছে।

বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে জলাশয়ের একাংশ। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌর শহরে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে জলাশয়ের একাংশ। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌর শহরে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা পারভীর আক্তার খোন্দকার বলেন, প্রাচীণ এই জলাশয়টি দখল করে অনেকে দোকানপাট-ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে। আমরা জলাশয়টি প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার করে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব রেখেছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাশয়টি উদ্ধারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, মাটিরাঙ্গা বাজারের পাশে ধলিয়া লেক দখলের বিষয়টি যাচাই সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।