ময়মনসিংহ মেডিকেলে সিঁড়িতে পড়ে মারা যাওয়া কুলসুমার দাফন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে নিহত কুলসুমার (৩৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামে জানাজা শেষে তাকে নিজ বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
নিহত কুলসুমা বালিখা গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। শহীদুল রিকশা চালিয়ে ও অন্যের জমিতে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করেন। কুলসুমার মৃত্যুর সময় তার সঙ্গে ছিলেন ১২ বছরের ছেলে স্বাধীন ও ১৮ বছরের মেয়ে মীম।
প্রতক্ষ্যদর্শী পরিবার ও প্রত্যক্ষসূত্রে জানা যায়, ১২ বছরের জন্ডিস আক্রান্ত ছেলে স্বাধীনের চিকিৎসার জন্য গত ১১ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠতলায় অবস্থান করছিলেন কুলসুমা। সোমবার সন্ধ্যায় ভবনে হঠাৎ আগুন ও তীব্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে ছেলে স্বাধীন ও মেয়ে মীমকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু একটিমাত্র খোলা সিঁড়িতে হাজারো রোগীর হুড়োহুড়ির মধ্যে চারতলার সিঁড়িতে লোকজনের প্রচণ্ড ধাক্কায় নিচে পড়ে যান কুলসুমা। এতে তার ওপর একের পর এক লোক চেপে বসলে তিনি জ্ঞান হারান। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মীম বলেন, আমার মা নিশ্চয়ই আরও অনেক দিন বেঁচে থাকত। অগ্নিকাণ্ডের কারণে নামতে গিয়ে মারা গেছে। মা অচেতন হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পায়নি। ফলে মারা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে সোমবার রাতে এই তথ্যের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ছয়জনের মৃত্যুর কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন—এমন প্রমাণ তিনি এখনও পাননি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গের তথ্য ছাড়াও তার কাছে আরও একটি তালিকা রয়েছে। সবগুলো তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত পরিস্থিতি জানা যাবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ বিভাগের একজন প্রকৌশলী।


