Advertisement

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যা, পলাতক স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

এশিয়া পোস্ট নিউজ
ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যা, পলাতক স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
ফরিদপুর জজ কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মনোজিত সরকারকে (৪৩) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

একই মামলায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় এজাহারভুক্ত অপর ছয় আসামি, বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে নয় বছর বয়সি একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় মনোজিতকে যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ধাপে ধাপে আরও এক লাখ টাকা নগদ যৌতুক দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন মনোজিত। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ এপ্রিল বিকেল চারটার দিকে তিনি স্ত্রী রমার গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন মনোজিত। তিনি মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রমার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করা হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১০ মে নিহতের বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মধুখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন মধুখালী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুল করিম। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এ রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, যৌতুক এখন সমাজের একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই আদালত এ রায় দিয়েছেন। তার মতে, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যৌতুকসংক্রান্ত অপরাধ কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিষয় :ফরিদপুর