কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী ও তাদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়ির কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে একই এলাকার ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে কানিজের ঝুলন্ত মরদেহ এবং মেঝে থেকে তার শিশুপুত্রের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পার হলেও মা ও ছেলের মৃত্যু নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ দাবি করছেন, সাদ্দাম দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় অভাবের তাড়নায় স্ত্রী এই পথ বেছে নিয়েছেন। আবার কেউ দাবি করছেন, সাদ্দাম গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন কানিজ।
তবে সাদ্দামের পরিবার অভাব বা দ্বিতীয় বিয়ের দাবি অস্বীকার করেছে। সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, আমরা শান্তিতে ছিলাম। পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে থাকতাম। অভাব ছিল না। কেন যে ও এমন করল, জানি না।
সাদ্দামের ভাই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাইয়ের দ্বিতীয় বিয়ের কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। যারা অপপ্রচার করছে, তারা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে এটি করছে। তবে ভাবি মাঝে মাঝে হতাশ থাকতেন। কারণ, তার বাবা দীর্ঘদিন তাদের দেখতে আসতেন না এবং লোকজন বলত সাদ্দাম আর জেল থেকে বের হতে পারবে না।
প্রাথমিকভাবে কানিজের বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার একে আত্মহত্যা বলে মানলেও শনিবার তিনি বাগেরহাট মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে ঝুলন্ত পাওয়া গেলেও নাতি কেন মারা গেল, তা জানতে চাই। সঠিক তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
কানিজের ভাই শাহনেওয়াজ আমিন শুভ অভিযোগ করে বলেন, আমার বোন আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না। সাদ্দামের পরিবারের আচরণেও আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। শুনেছি সাদ্দামের দ্বিতীয় বিয়ে করেছে এবং ওই পরিবারের লোকজন বাড়িতে এসেছিল, এরপর থেকেই বোন মনমরা ছিল।
শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম হোসেনকে শেষবারের মতো তার স্ত্রী-সন্তানকে দেখার সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে সেখানেই বন্দি আছেন তিনি।
তবে সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার স্বজনরা। সাদ্দামের মামা হেমায়েত হোসেন বলেন, প্যারোলের জন্য আবেদন করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। আমাদের মাত্র ৪-৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, যেহেতু বন্দি যশোর কারাগারে ছিলেন, তাই প্যারোলের আবেদন সেখানকার প্রশাসনের কাছে করতে হতো। তবুও মানবিক কারণে তাদের দেখার বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে।