মামলা তুলে নিতে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার নবাবচর এলাকায় মাদক মামলা তুলে নিতে মামলার বাদী পারুল বেগমের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অজ্ঞাতনামা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন বাদীর বাড়িতে গিয়ে হট্টগোল করেন। তারা পুলিশের উপস্থিতিতেও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে ভয়-ভীতি দেখায়।
শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করতে পুলিশ উপস্থিত হলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের ওপর মব সৃষ্টি করে তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন শাওন (৩৫), জুয়েল (ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, শাক্তা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি), রাব্বি (ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শাক্তা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, সজিব, রুবেল, ফয়সাল, সজিবসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে দুপুর দেড়টার দিকে শাক্তা ইউনিয়নের খোলামোড়া শাহজালাল রোড এলাকার এক দোকানের সামনে মাদক বিক্রি করেন স্থানীয় মাদক কারবারি গনী (৪২), নয়ন (৩৫), হৃদয় (৩৮) ও আবু তালেব (৫০)। পারভেজ এতে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা লোহার রড ও শাবল নিয়ে পারভেজের ওপর হামলা করে। এ সময় তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা পারভেজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার মাথায় একাধিক সেলাই লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে এবং তিনজনকে অজ্ঞাতনামা দিয়ে মামলা করেন পারুল বেগম। সেই ঘটনার পর থেকেই তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন আসামিসহ তার স্বজনরা।
পারভেজের মা পারুল বেগম জানান, তার ছেলে দোকানদারি করে সংসার চালান। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়ে আসছিল। দোকানের সামনে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করায় তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাফায়েত আহমেদ দেলোয়ার বলেন, মাদক মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে। আজকে দুপুরে হট্টগোলের খবর পেয়ে সেখানে গেলে তারা পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে নিজেরাই মাদক মামলার সমাধান করতে চায় বলে বিষয়টা নিয়ে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে।
