কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ, তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দোকানদারের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ আগস্ট উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের হাজী শরীয়তুল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় দোকানদার মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়। এ সময় তার ভাই ও বোনকেও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের একজনের গলায় জোর করে জুতার মালা পরিয়ে দিচ্ছে কয়েকজন নারী। ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভুক্তভোগী তরুণীর মা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মনির আমার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। এর আগে তাকে নিষেধ করলে কিছুদিন চুপ ছিল। মঙ্গলবার সকালে আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে বাজার করতে মনিরের দোকানে গেলে সে বড় মেয়েকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। আমার মেয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ও আমার অন্য সন্তানদের জোরপূর্বক দোকানের পাশে ফৌজিয়ার বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে নির্যাতন করা হয়। পরে লোকজন জড়ো হলে তাদের চোর অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে দেয়।
তিনি আরও বলেন, মনির আমাকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলে। গিয়ে দেখি আমার তিন সন্তানকে মারাত্মক জখম করে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, মনির আমাকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিত। আমি এড়িয়ে যেতাম। ঘটনার দিন দোকানে গেলে সে আবারও প্রস্তাব দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে ও আমার ভাই-বোনকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। আমি চিৎকার দিলে লোকজন আসলে তারা উল্টো আমাকে চোর বলে অপবাদ দেয়। এরপর গাছে বেঁধে মারধর করে ও চুল কেটে দেয়।
অভিযুক্ত মনির মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মারধরের বিষয়টি মিথ্যা। তারা আমার দোকানে চুরি করেছে। স্থানীয় লোকজন তাদের গাছে বেঁধে রেখেছে। চুল কেটেছে অন্যরা। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.png)


