Advertisement
ময়মনসিংহে রাব্বী হত্যা

‘বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ময়মনসিংহ
‘বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’
গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে কোপাইছি ওরে।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেক।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ সদর দপ্তরে র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলন শেষে এসব কথা বলেন গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। এ সময় নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান।

নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন।

বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত মোহাম্মদ রাব্বি। ছবি : সংগৃহীত
নিহত মোহাম্মদ রাব্বি। ছবি : সংগৃহীত

নিজের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে আবদুল খালেক আরও বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম, সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’

নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে খালেক বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনও চাঁদাবাজি করিনি। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষা করতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীকালে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সাহায্যে মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পূর্বশত্রুতা ও ক্ষোভের জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং এ কাজে একটি বড় দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল বলে খালেক দাবি করেন। সেই থেকেই তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আক্রোশ ছিল। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত ব্যক্তির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। র‍্যাব মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিষয় :