logo

মৃত যুবককে ঝাড়ফুঁকে জী‌বিত করার চেষ্টা

মৃত যুবককে ঝাড়ফুঁকে জী‌বিত করার চেষ্টা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় সাপের কাম‌ড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করে জী‌বিত করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মৃত যুবককে জী‌বিত করার চেষ্টা চলে। পরে তাকে দাফন করা হয়।

মৃত এইচএম সায়েম বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ডভ্যানচালক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। বাড়িতে পৌঁছালেও ধীরে ধীরে তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

রাত ১২টার দিকে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। পরপর দুইবার অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। শুক্রবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

তবে স্বজনরা তাকে দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় করেন।

যুবকের স্বজন জুয়েল হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আমরা আশা ছাড়িনি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে, এই বিশ্বাস থেকেই আমরা চেষ্টা চালিয়েছি।

ঝাঁড়ফুক দেখ‌তে আসা চন্দ্রশেখর মন্ডল ব‌লেন, শু‌নে‌ছি সা‌পের কাম‌ড়ে একজন মারা গে‌ছে। প‌রে শুন‌তে পাই মরদেহ ঝাঁড়ফুক করা হ‌চ্ছে জী‌বিত করার জন‌্য। তারপর এই ঘটনা নিজ চো‌খে দেখ‌লাম।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। খবর পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

এ বিষয়ে ব‌রিশাল জেলা সি‌ভিল সার্জন ডা. মনজুর এ এলাহী জানান, ওই ব‌্যক্তি‌কে যে সা‌প কামড় দি‌য়ে‌ছে সে‌টি হয়‌তো খুবই বিষধর জা‌তের। নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণের পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁকের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।