বরিশালে ১০ টাকায় আলুর চপসহ ৫ আইটেমের ইফতার

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের চড়া দামে যখন ভীষণ কষ্টে সাধারণ মানুষ ঠিক তখন বরিশালে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে এক তরুণ উদ্যোক্তা। মাত্র ২ টাকায় প্রতি পিস আলুর চপ থেকে শুরু করে বেগুনি সবই মিলবে এ দোকানে। এ নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে গেছে বরিশাল নগরীজুড়ে।
বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে খাবার হোটেল চালান রবিউল ইসলাম মিঠু। ওই হোটেলে সারা বছর ভাতের পাশাপাশি বিক্রি হয় আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনির মতো নানা আইটেম।
বছরজুড়ে বেগুনি-পেঁয়াজুসহ নানা আইটেম ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করলেও রোজা উপলক্ষে সেগুলোর দাম রাখছেন মাত্র দুই টাকা করে। এমন উদ্যোগে হাসি ফুটেছে নগরের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে। আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, কুমড়োর চপ, মরিচের চপ প্রতি পিস ২ টাকা করে ইফতারির ৫টি আইটেম পাওয়া যায় মাত্র ১০ টাকায়। ফলে বিকেল হতে না হতেই কম টাকায় ইফতারসামগ্রী কিনতে নানা পেশার মানুষ ভিড় জমায় তাদের দোকানে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে কম টাকায় ইফতারসামগ্রী কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা।
রফিক নামে এক ক্রেতা জানান, ২ টাকা প্রতি পিস আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, কুমড়ার চপ, মরিচের চপ কিনতে পেরে খুশি। অন্যান্য দোকানে আলুর চপ ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সেখানে ২ টাকায় কিনতে পারা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সৌভাগ্যের। আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
ফয়সাল কাজী নামে আরেক ক্রেতা জানান, মাত্র ১০ টাকায় ৫টা আইটেম এটা আসলেই অবিশ্বাস্য। আমরা বন্ধুরা মিলে ইফতারের আয়োজন করেছি। কম টাকায় তাই এখান থেকে কিনতে এসছি। চাহিদা অনুযায়ী কম টাকায় বেশি ইফতার পাচ্ছি এখান থেকে। এ ছাড়া যারা মেস ও হোস্টেলে থাকে সেসব শিক্ষার্থীর কাছেও এমন কম দামে ইফতার পাওয়াটা আনন্দের।
লিজা নামে আরেক ক্রেতা জানান, চাকরি করে ঘরে ইফতার বানানোর তেমন একটা সময় পাওয়া যায় না বন্ধের দিন ছাড়া। তাই এখান থেকে কিনে নিয়ে যাই। সবাই মজা করে ইফতার করি।
ক্রেতাদের কথা শুনতে শুনতে কথা হয় মিঠুর দোকানের কর্মচারী জিসান ও তাওহীদের সঙ্গে। এমন উদ্যোগে সাড়া দিয়ে মিঠুর পাশে দাঁড়ান দোকানের ৪ কর্মচারী। তারা জানান, মাসজুড়ে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকেই ইফতার বানানোর কাজ করেন তারা। এ ছাড়া এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই তাদের বিনা পারিশ্রমিকে সাহায্য করে থাকেন। সেটাও আনন্দের বলে জানান তারা। যতদিন বরিশালে আছেন মিঠুর দোকানে রমজান মাসে এমন উদ্যোগের পাশে থাকবেন।
এদিকে মিঠুর এমন উদ্যোগে খুশি তার পরিবারও । মিঠুর ছেলে সৌরভ বলেন, বাবা আমাদের দিকে খেয়াল রাখেন সব সময়। তেমনি নিম্নআয়ের মানুষকে নিয়েও চিন্তা করেন। সেখান থেকেই বাবার এমন উদ্যোগ। লাভ কম হলেও নিম্নআয়ের মানুষ যে ইফতার করতে পারে কম টাকায় এটাতেই আমরা খুশি।
উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম মিঠু জানান, রমজান মাস এলেই দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেন। এ সময় গরিব-মধ্যবিত্তদের কেনাকাটা করা অনেক কষ্ট হয়। সেই চিন্তা থেকে রমজান মাসে ২ টাকায় ইফতারের ৫টি আইটেম বিক্রি উদ্যোগ নিয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই রমজান মাসে মানুষের সেবা করে যেতে চান তিনি।
১০ টাকার ৫টি ইফতার আইটেমের পাশাপাশি মুরগির সাসলিক ২০ টাকা, গরুর সাসলিক ৪০ টাকা, আলুর সাসলিক ১০ টাকা, ঝাল টমেটো ১০ টাকা, ডিমের চপ ১০ টাকা আর সবজির বড়া ৫ টাকায় বিক্রি হয় দোকানটিতে। এ ছাড়া বুটসহ নানা আইটেম পাওয়া যায় দোকানটিতে। গত ৫ বছর ধরে রোজার মাসকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগে ব্যবসা করছেন তারা।