logo

দুই বছর ধরে মধুমতী নদীতে ফেরি বন্ধ, ভোগান্তিতে ৩৫ গ্রামের মানুষ

দুই বছর ধরে মধুমতী নদীতে ফেরি বন্ধ, ভোগান্তিতে ৩৫ গ্রামের মানুষ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঝামা সংলগ্ন মধুমতী নদীতে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঝামাসংলগ্ন মধুমতী নদীতে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের অন্তত ৩৫টি গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে পারাপারে পোহাতে হচ্ছে মারাত্মক ভোগান্তি। এমনকি জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনে যাতায়াতেও তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর ‘নহাটা-লোহাগড়া-কালিশংকরপুর-মহম্মদপুর’ জেলা মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মাধ্যমে ঝামা ঘাটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ফেরি চালুর ফলে মাগুরা ও ফরিদপুর জেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের এক অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে চালুর মাত্র ৮-৯ মাসের মাথায় কারিগরি ত্রুটি ও সংযোগ সড়কের ক্ষতির কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আজ অবধি চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফেরি চালু হওয়ায় যে জনকল্যাণ সাধিত হয়েছিল, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে তা এখন চরম জনদুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বর্ষা বা নদীর পানি বৃদ্ধির সময় মধুমতীর খরস্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও যাতায়াত খরচ—দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পুনরায় ফেরি চালুর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

ঝামা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ইছহাক মোল্লা জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এটি চালুর ব্যবস্থা করলে অন্তত ৩৫ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে। একই দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউফ মোল্লা, মাসুদ মোল্লা, হারুন শেখ ও নেহার উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, ফেরিটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নদীর পূর্ব পাড়ে সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক সংস্কার ও মেরামতের জন্য দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়াধীন। টেন্ডার সম্পন্ন হলে দ্রুত কাজ শেষ করে আশা করছি অচিরেই পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।