‘ছাত্রলীগ ধরেছি’ পোস্ট দেওয়া ছাত্রশক্তি নেতার বাড়িতে আগুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত তিনটার পর উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে ডোমগাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ডোমগাটা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. সাইফুল্লাহ। গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা, বড় ভাই জয়নাল আবেদীন ও মো. সাইফুল্লাহর নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে বাস করতেন।
ভুক্তভোগী মো. সাইফুল্লাহ বলেন, রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং বসতঘরে কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বসতঘরের আগুন বড় হয়নি, নিভিয়ে ফেলা হয়। অনেক আগে থেকেই ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে, ইদানিং হুমকি বেশি ছিল।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েকটি ইস্যুতে এলাকার পলাতক আওয়ামী লীগের লোকজন ফেসবুক পোস্টে হুমকি দিচ্ছিল। এ কাজটি আওয়ামী লীগ করেছে এটা স্পষ্ট। ঘটনার পর অনবরত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলছে ‘তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলে-মেয়ে বেঁচে গেল।’ এ ঘটনায় আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।
গত ৮ মার্চ রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। ওই সময় তাকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ছাত্রশক্তির নেতা সাইফুল্লাহ। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ পরবর্তী সময়ে তিনি এই ফেসবুক পোস্টটি তার আইডি থেকে ডিলিট করে ফেলেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ঢাবি শিক্ষার্থী রাহিদ খানকে ছাত্রলীগ অভিযোগে মারধর করে পুলিশের হাতে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে আমার ঘটনার সম্পৃক্ততা আছে কি না নিশ্চিত না।’
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব আলী হোসেন এবং জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘লাকড়ির একটি ঘরে আগুন লেগেছে। এছাড়া বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ রয়েছে। টিন কেটে গেছে। পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই আগুন নিভিয়েছেন। স্লোগান দিয়ে এসে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ছাত্রনেতার ভাই জয়নাল আবেদীন দাবি করেছেন। তবে ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি।’