logo
Advertisement

একাধিক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগের পর মাদ্রাসা পরিচালক লাপাত্তা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,বরিশাল
একাধিক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগের পর মাদ্রাসা পরিচালক লাপাত্তা
তাহফিজুল মিল্লাত মডেল মাদ্রাসার ফটক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বরিশাল নগরের একটি মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে একাধিক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ মাদ্রাসায় গেলেও পরিচালক শফিকুল ইসলামকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

বরিশাল নগরের সিএন্ডবি রোডের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া তেমাথা এলাকার সোমালয় ভবন-৩-এ অবস্থিত তাহফিজুল মিল্লাত মডেল মাদ্রাসায় এ অভিযোগ উঠেছে। শফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানান, পবিত্র রমজান মাসে রাতে ইফতারের পর ঘুমানোর প্রস্তুতির সময় ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে নিজের কক্ষে প্রথম যৌন নিপীড়ন চালান পরিচালক। কেবল একটি শিশু নয়, মাদ্রাসার আরও একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। ভীতি ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে শিশুরা এত দিন চুপ থাকলেও সম্প্রতি বিষয়টি অভিভাবকদের কাছে প্রকাশ পায়।

ওই অভিভাবক আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার ভবনের বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পরে বাড়িওয়ালা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সন্ধ্যার মধ্যে উপস্থিত হতে বলেন। অন্যথায় মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ জানান, প্রতিষ্ঠানটির হিফজ বিভাগে ১৫ জন, নাজেরা বিভাগে ১৫ জন, নুরানি বিভাগে ৬০ জন এবং মহিলা মাদ্রাসায় ১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের ওপর আস্থা রাখেন। কোনো শিক্ষক বা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কোতয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদ্রাসায় গিয়েছিল। তবে সেখানে পরিচালক শফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।