Advertisement

কুমিল্লায় ইউপি গোডাউনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
কুমিল্লায় ইউপি গোডাউনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গোডাউনে পড়ে থেকে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা গাছের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো চারাগুলো ওয়ার্ডে বিতরণ ও নির্ধারিত স্থানে রোপণ না করায় পরিচর্যার অভাবে বেশ কিছু চারা শুকিয়ে মারা গেছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে গিয়ে পড়ে থাকা বেশ কিছু শুকিয়ে যাওয়া ও নষ্ট চারা দেখা যায়।

জানা গেছে, সরকারের পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এসব চারা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সময়মতো চারাগুলো বিতরণ করে বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হলে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিষদের গোডাউনে ফেলে রাখায় পরিচর্যার অভাবে চারাগুলোর একটি বড় অংশ নষ্ট হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, মূল্যবান এসব চারা মথুরাপুর আলোকিত পূর্ব কানন, লালবাগ সময়ের বাতিঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে বিতরণ করা হলে তারা নিজস্ব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে এগুলো রোপণ করতে পারত। এতে চারাগুলো নষ্ট হতো না।

তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেওয়া চারাগুলো এভাবে অবহেলায় নষ্ট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সময়মতো বিতরণ ও রোপণের ব্যবস্থা করা হলে এগুলো পরিবেশের উপকারে আসত।

স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। চারাগুলো বিতরণ ও রোপণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের কোনো উপকরণ যেন অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে চারা নষ্ট হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিল্লাল ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, চারা পরিষদে পৌঁছানোর পর ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোখলেছুর রহমান, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনির মজুমদার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমাম হোসেন এগুলো সংগ্রহ করেননি। ফলে চারাগুলো পরিষদের গোডাউনেই পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে। এতে আমার কোনো গাফিলতি ছিল না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব নথি তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে ইউপি সচিবের অভিযোগ অস্বীকার করে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনির মজুমদার বলেন, এসব গাছ আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এদিকে পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্যরা এখনো গাছগুলো না নেওয়ায় পরিষদের গোডাউনে পড়ে ছিল। এতে ১০ থেকে ১২টি চারা নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আরও ১০০টি চারা কিনে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয় :