Advertisement

কুষ্টিয়ায় ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ
লোডশেডিংয়ে জীবনযাত্রা স্থবির। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তীব্র তাপদাহ এবং বিরামহীন লোডশেডিংয়ের দ্বৈত চাপে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার সার্বিক জনজীবনে। শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও গ্রামীণ জনপদের চিত্র অত্যন্ত নাজুক। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতায় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

Advertisement

বোরো ধান আবাদের এই ভরা মৌসুমে সেচ কার্যক্রম নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ পাম্প বা গভীর নলকূপ সচল রাখতে না পারায় ফসলি খেত শুকিয়ে যাচ্ছে; এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডিজেলসংকট।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কৃষক মেহেদী জানান, সময়মতো সেচ দিতে না পারায় খেতের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পোলট্রি খামার ও স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা সদরের পৌর এলাকাগুলোতেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। দিনভর প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন শহরবাসী। তবে গ্রামীণ এলাকায় প্রবেশ করতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। জেলার মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও কুমারখালী উপজেলায় বিদ্যুতের এই বিড়ম্বনা সবচেয়ে বেশি।

কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা নিজাম জানান, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে অবস্থান করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খোকসা উপজেলার গোপগ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসবে বা কখন যাবে, তার কোনো নিয়ম নেই। তীব্র গরমের মধ্যে শিশু আর বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা চরম দিশেহারা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই তপ্ত আবহাওয়া ও বিদ্যুৎহীনতার কারণে জেলাজুড়ে সুপেয় পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর চালনা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পানির পাম্পগুলো সচল রাখা যাচ্ছে না।

পৌর এলাকার গৃহবধূ নিতু বলেন, বিরামহীন লোডশেডিংয়ের সাথে যোগ হয়েছে পানির হাহাকার। ঘরে এক ফোঁটা খাবার পানি নেই। তীব্র গরমে জীবন ওষ্ঠাগত, তার ওপর পাম্প বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

লোডশেডিংয়ের মূল কারণ হিসেবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হঠাৎ তাপদাহ বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা সামাল দিতে গিয়ে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

একই ব্যাখ্যা দিয়েছে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগও। অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকার কথা উল্লেখ করে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আরিফুল ইসলাম বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিচ্ছি। প্রচণ্ড গরমে গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত চাপে পড়েছে। আমরা এলাকাভিত্তিক সুষম বণ্টন বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়।

বিষয় :