logo

বোরকা পেঁচিয়ে মুহূর্তেই সেচ পাম্পে ঢুকে যান নারী

বোরকা পেঁচিয়ে মুহূর্তেই সেচ পাম্পে ঢুকে যান নারী

শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং এলাকায় অরক্ষিত একটি সেচ পাম্পের সঙ্গে বোরকা পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং কীর্তিনাশা নদীর পাড়-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রোজিনা বেগম চরপালং এলাকার ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কীর্তিনাশা নদীর পাড়ে স্থাপিত একটি সেচ পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসে বোরকা পাম্পের ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশে পেঁচিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোরকা পেঁচিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজিনা বেগম পাম্পের ভেতরে চলে যান এবং তার শরীরের ওপরের অংশ মেশিনের ভেতরে আটকে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই সেচ পাম্পটি কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়াই চালানো হচ্ছিল। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলাম মেশিনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনি দিতে। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সেলিম মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় নারীর দেহ মেশিনে পেঁচানো অবস্থায় রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবীর হোসেন বলেন, সেচ পাম্পটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, মেশিন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।