logo
Advertisement

১ কিমি কাদার চক্রেই কাটল স্বাধীনতার ৫৪ বছর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবনা
১ কিমি কাদার চক্রেই কাটল স্বাধীনতার ৫৪ বছর
জীবিকার তাগিদে ছুটতে থাকা মানুষ আটকে যান হাঁটুসমান কাদার ১ কিলোমিটার পথে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দেশের উন্নয়ন যখন অনেক দূর এগিয়েছে, তখনো প্রতিদিন ভোর হলে পাবনা সদরের ১০টি গ্রামের মানুষকে পার হতে হয় ঝুলন্ত এক অনিরাপদ জীবনের মুখোমুখি হয়ে। ভোর হলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার তাগিদে ছুটতে থাকা হাজারো মানুষ আটকে যান ১২০ ফুটের একটি বাঁশের সাঁকো আর হাঁটুসমান কাদার ১ কিলোমিটার পথে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছরেও পরিবর্তন আসেনি তাদের এই নিত্যযাত্রার গল্পে।

Advertisement

পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কামারডাংগা, চরপাড়া, ঢালিপাড়া, মোল্লাপাড়া, দাসপাড়া, বেড়পাড়া, মুন্সীপাড়া, ফারাদপুর ও শাঁখারীপাড়াসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট একটি নদীর ওপর স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোই গ্রামগুলোর একমাত্র ভরসা। নদীর ওপারেই দুবলিয়া হাজী জসিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, ফজিতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও দুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী চরম ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়; প্রায়ই সাঁকো থেকে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।

১২০ ফুটের একটি বাঁশের সাঁকো ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা। ছবি : এশিয়া পোস্ট
১২০ ফুটের একটি বাঁশের সাঁকো ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাঁকো পার হওয়ার পরই শুরু হয় কামারডাংগা জামে মসজিদ থেকে বারোপাখ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা পথ। বর্ষা মৌসুমে এটি হাঁটুসমান কাদায় রূপ নেয়। ফলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে নিতে কৃষককে গুনতে হয় দ্বিগুণ খরচ। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক ক্ষুদ্র পোল্ট্রি খামারি ও ব্যবসায়ী লোকসান গুনে ব্যবসা গুটিয়েছেন। মারাত্মক কোনো রোগী কিংবা মরদেহ বহন করা তো দূরের কথা, অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকারও সুযোগ নেই এখানে। স্থানীয়রা আক্ষেপ করে জানান, রাস্তার বেহাল দশার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে যাচ্ছে।

কামারডাংগা গ্রামের বাসিন্দা মোজাহার আলী ভক্ত বলেন, একটি সেতু আর এক কিলোমিটার রাস্তার জন্য আমাদের এত কষ্ট। ফসল আনা-নেওয়া থেকে রোগী হাসপাতালে নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি। দ্রুত একটি সেতু ও পাকা রাস্তা চাই। পাকা রাস্তা হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ আব্দুল গফুর প্রামাণিক বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে আসছি। এখন বিরক্ত হয়ে এগুলো আর করতে মন চায় না। নির্বাচনের সময় সবাই সেতু ও রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আর কেউ খোঁজ নেন না।

কামারডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন, এলাকায় পাকা রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে আসতে চায় না। হাঁটুসমান কাদা থাকায় অভিভাবকেরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ফলে অনেকের লেখাপড়ায় ঘাটতি হচ্ছে। আর কত বছর গেলে এখানকার রাস্তাটি পাকা হবে?

সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, সেতু নির্মাণ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখানে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। আলোচনা চলছে। রাস্তাটি পাকা করার চেষ্টা করা হবে।

পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা বলেন, ওই এলাকার ছবি দেখে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সেখানকার মানুষ কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বিষয় :