জমি নিয়ে বিরোধে হত্যা/পাশাপাশি কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত বাবা ও মেয়ে

জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মুখোশধারীদের হামলায় নিহত বাবা ও পাঁচ বছরের মেয়ের মরদেহ একদিনের ব্যবধানে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে ঘটনার তিন দিন পর শিশু তোয়াবার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
এর আগে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা গোলাপ হোসেনের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। বাবা-মেয়ের এমন মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খাসকান্দি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শিশু তোয়াবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খাসকান্দি মোল্লাবাড়ি কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে একই কবরস্থানে বাবা গোলাপ হোসেনকে দাফন করা হয়।
এদিকে বাবা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রতিবেশী সোহরাব বেপারীকে (৬০) প্রধান আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দায়ের করা এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রতন বৈরাগী জানান, প্রতিবেশী সোহরাব বেপারীর সঙ্গে নিহত গোলাপ হোসেনের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। মৃত্যুর আগে গোলাপ হোসেন জানিয়েছিলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহরাবের পাঠানো মুখোশধারী লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মামলাটি রেকর্ড করা হয় এবং মামলার প্রধান আসামি সোহরাব বেপারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সিরাজদিখান উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত গোলাপ হোসেন ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে তোয়াবার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে যায় এবং বাবা গোলাপ হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকস ইটভাটার পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তোয়াবার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর ঠিক সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা গোলাপ হোসেনের (৩৬) মৃত্যু হয়।
