আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যা: উচ্ছেদ অভিযানে মিলল সেই পুলিশভ্যান

সাভারের আশুলিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সেই পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা গাড়িটি অবশেষে একটি জমি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার সময় বেরিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে অবস্থিত পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি উন্মোচিত হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ বলেন, আশুলিয়া থানার সামনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন জীবিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম এটি নাকি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের দাবি আশুলিয়ার এই নির্মমতার স্মৃতি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের নারকীয়তার স্মারক হিসেবে এই ভ্যানটিকে অবিলম্বে জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হোক।
অন্য এক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এই গাড়িটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের এক নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। এটি ডাম্পিংয়ে না পাঠিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।
বিষয়টি নিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার রিজার্ভ ফোর্সের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল বলেন, গাড়িটি তো চাইলেই এভাবে দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি আদালতের আলামত ও মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি নিতে হলে আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হবে। নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট বিকেল তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর বাইরে আরও একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন। একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে এই ছয়জনকে (যার মধ্যে একজন জীবিত) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর সেই ভ্যানটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
