স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন, শ্বশুর-শাশুড়িরও কারাদণ্ড

নাটোরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৩য় আদালত) বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় তথ্য ও আলামত গোপনের দায়ে নিহতের শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে ২ বছর করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পিপলা গ্রামের ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বামনবাড়িয়া গ্রামের মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা পারিবারিক ইস্যুতে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মরিয়মকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিন পরিবার মোবাইল ফোনে মরিয়মের মৃত্যুর খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শোয়ার ঘরের মেঝেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। ওই সময় ফরহাদসহ তার বাবা-মা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমিরুল মণ্ডল বাদী হয়ে জামাতা ফরহাদ হোসেন, শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় এবং তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত এ রায় দেন।
নাটোর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রুহুল আমিন তালুকদার জানান, বিচারক দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের অপরাধে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেছেন।


