logo

গর্ভের সন্তানসহ প্রেমিকাকে হত্যার ঘটনায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

গর্ভের সন্তানসহ প্রেমিকাকে হত্যার ঘটনায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ মিয়াকে আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীতে পোশাক কারখানায় চাকরি করা অবস্থায় প্রথম পরিচয়ের সূত্র ধরে হয় প্রেম। এরপর বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর গর্ভের সন্তানসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন প্রেমিকা। ওই হত্যা মামলায় আসামি মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে এ রায় দেন রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির।

রংপুর জজ কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের গাজী খাঁ পিত্তিরচড়া-রাজারামপুর সড়কের পশ্চিম পাশে আখক্ষেতে এক অজ্ঞাতনামা নারী ও একটি নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

পরে র‌্যাব মাসুদকে গাজীপুরের তারাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মাসুদ। পুলিশের তদন্তে ওই নারীর পরিচয় বেরিয়ে আসে। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক সান্তনা বেগম, বাড়ি বগুড়ায়।

জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের মোনাইল গ্রামের সাহেব মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সান্তনার সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের সম্পর্ক পরে প্রেমে গড়ায়। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। সান্তনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ কৌশলে তা এড়িয়ে যান। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হন সান্তনা। মাসুদ চলে আসেন পীরগঞ্জে।

পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের ১২ জুলাই সান্তনা পীরগঞ্জে মাসুদের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি জানান। মাসুদ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে তাকে খালার বাড়িতে নিয়ে যান। পরের দিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে একটি আখক্ষেতে গলায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মাসুদ। এরপর পেটে লাথি মারলে মৃত কন্যাসন্তান প্রসব হয়।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মাসুদকে দায়ী করে আদালতে চার্জশিট দেন। ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত মাসুদকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আফতাব উদ্দিন বলেন, এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দ্রুত রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি বিশ্লেষণ করে আপিল করব।