
সংস্কারের তিন মাস না পেরোতেই ভেঙে পড়েছে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল পুরানবোর্ড থেকে পিএমখালীর চেরাংঘর পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ। সড়কটির কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সড়কের দুপাশে দেখা দিয়েছে ভাঙনও।
বৃষ্টির পানি জমে অনেক জায়গায় সড়কটি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি রাস্তা, নাকি খাল। অথচ, এই সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘কার্পেটিংয়ের নিচে কী রয়েছে, সেটি দেখার বিষয় আমাদের নয়’ বলে জানান সড়কটির সংস্কার কাজের ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ভাঙা ও কাঁদাযুক্ত অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন যাত্রীরা। গাড়ির আগে যাত্রীরাই দ্রুত হেঁটে পার হচ্ছেন ভাঙা অংশ। এসময় কাদায় লেপ্টে অনেকের জামাকাপড় নষ্ট হতেও দেখা যায়। পথচারীদের অভিযোগ, ভাঙা সড়কে প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও খুরুশকুল পুরানবোর্ড থেকে পিএমখালীর চেরাংঘর পর্যন্ত সড়কটির এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কাজ শেষ হওয়ার পরেই সড়কটি ভেঙে পড়েছে।
কথা হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। তারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এরই মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৬০০ মিটার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উঠে গেছে প্রায় ৪০০ মিটার অংশের কার্পেটিং। অতিবৃষ্টির পর পানি জমে এসব স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়কটির সংস্কার কাজ করছে নিটা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রকল্পে কার্পেটিং, কিছু জায়গায় নালা বা ড্রেন এবং কোথাও কোথাও ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ রয়েছে। এর বাইরে বড় ধরনের কোনো কাজ নেই। সড়কটির প্রস্থ শুরুতে প্রায় ৩ মিটার এবং শেষের দিকে সাড়ে ৩ মিটার।
এদিকে খুরুশকুলের বাসিন্দা মো. আবছার বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার সময় আমরা কাজে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা আমলে নেননি। এ কারণে তিন মাস না যেতেই রাস্তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
খুরুশকুল ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন দে এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাস্তা ভেঙে গেছে দেখেছি। এটি ইউপি পরিষদের কাজ নয়। তবে আমরা বিষয়টি ইউএনও ও এলজিইডি অফিসকে জানিয়েছি।
খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সংস্কারের আগে রাস্তা অনেক ভালো ছিল। এখন রাস্তা না খাল বোঝা যায় না। এ রাস্তা দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ১৫ হাজার মানুষের চলাচল।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিটা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হলেও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী অনেক জায়গায় জায়গা স্বল্পতার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত ব্যয় প্রস্তাবিত অর্থের চেয়েও কম হবে।
তিনি বলেন, ড্রেন, গাছপালা ও বাড়িঘরের কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এ কারণে সেখানে কাজ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের কাজ ছিল কার্পেটিং, কোথাও কোথাও নালা নির্মাণ এবং কোথাও কোথাও ৩-৪ ইঞ্চি গাইডওয়াল নির্মাণ।
সড়কটির প্রায় ৪০০ মিটার কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কার্পেটিং উঠে গেছে। তবে কার্পেটিংয়ের নিচে কী রয়েছে, সেটি দেখার বিষয় আমাদের নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার এশিয়া পোস্টকে বলেন, পানি প্রবাহের সমস্যার কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। আরও কিছু ড্রেনের কাজ বাকি আছে। এসব কাজ শেষ হলে আমরা রাস্তার কাজ বুঝে নেব।



