জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে জেলার শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী পণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পরিচিতি লাভের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’ জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়। সম্প্রতি জিআই ফরম-০১ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সম্প্রতি জিআই ফরম-০১ অনুযায়ী পণ্যটির আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় জাতীয়ভাবে স্বীকৃত জিআই পণ্যের মর্যাদা লাভ করেছে।
জিআই সনদ লাভের খবরে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের মতে, এই স্বীকৃতির ফলে হাজারী গুড়ের স্বকীয়তা ও গুণগত মান দেশ-বিদেশে আরও বেশি পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে খেজুর রস সংগ্রহকারী, গুড় প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
জিআই সনদ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এশিয়া পোস্টকে বলেন, মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। জিআই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্য নতুন মর্যাদা পেল। এর ফলে স্থানীয় উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও হাজারি গুড়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে এ পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারি গুড়ের নকল উৎপাদন ও অপব্যবহার রোধে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং দেশ-বিদেশে মানিকগঞ্জের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হবে।
