logo

পুলিশের ছিনতাই হওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, আটক ৩

পুলিশের ছিনতাই হওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, আটক ৩

নারায়ণগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১৬ রাউন্ড গুলিসহ সেই পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে বন্দর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতরা হলেন—শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার মো. বিশাল (৩১), ফতুল্লার কাশীপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার ফরহাদ আহম্মেদ (২৩) এবং হাসান (২১)।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী ভোর ৪টার দিকে এশিয়া পোস্টকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা বেপারীপাড়া এলাকা থেকে প্রথমে বিশালকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে রাতেই ফতুল্লার কাশীপুর ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে ফরহাদ ও হাসানকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকা থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ছয়টার দিকে এসআই লুৎফর রহমান ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছিলেন। শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগর ভবনের সামনে একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। তারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাতের চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে হামলাকারীদের আঘাত তার শরীরে না লেগে মোটরসাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার সরকারি পিস্তলটি গুলিসহ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমানের ওপর হামলার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক তিনজনই অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রথম আটক হওয়া বিশাল ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। অন্য দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।