জৌলুস ছড়াচ্ছে মার্বেলে মোড়ানো ২০ কোটি টাকার মসজিদ

অপরূপ সৌন্দর্যের নজরকাড়া নিদর্শন আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদটি দেশজুড়ে বহু মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে সিরাজগঞ্জবাসীর মনোযোগ আকৃষ্ট করেছে।
সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বেলকুচি পৌরসভা এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের মুকন্দগাঁতী মহল্লার সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের পশ্চিম পাশে আড়াই বিঘা জমির ওপর ৩১ হাজার স্কয়ার ফিটে নির্মিত হয়েছে আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদটি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুকুন্দগাঁতী এলাকার বাসিন্দা রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রয়াত শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকারের নির্মিত বাহেলা খাতুন চক্ষু হাসপাতাল এলাকার দুস্থ রোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে আসছে। ২০১২ সালে তিনি আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদটির ভিত্তিপ্রর স্থাপন করেন।
নিজস্ব অর্থায়নে ছেলে আমানুল্লাহ সরকার ও মা বাহেলা খাতুনের নামে ‘আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। শুরু থেকে প্রতিদিন অর্ধ-শতাধিক শ্রমিক মসজিদটি নির্মাণে কাজ করেন। আর নির্মাণকাজ শেষ হতে সর্বমোট নয় বছর সময় লেগেছে। কিন্তু মসজিদটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের ০২ আগস্ট মারা যান শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার। এরপর তার ছেলে আমান উল্লাহ সরকার মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

নয়নাভিরাম দ্বিতল এই মসজিদটির ওপরে বিশাল আকৃতির একটি গম্বুজের পাশাপাশি ছোট-ছোট আরও আটটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির দুইপাশে রয়েছে ১১তলা সমতুল্য (১১০ ফিট) উচ্চতার মিনার। মসজিদের ভেতরে মার্বেল পাথর ও গ্রানাইড পাথর দিয়ে মোড়ানো দৃষ্টিনন্দন নয়নাভিরাম কারুকাজ নজর কেড়ে নেয় মুসল্লিদের। মসজিদের চারপাশে রয়েছে সাদা রঙের পিলার, সুউচ্চ জানালা ও সাদাটে টাইলস। চত্বরে পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে সবুজ ঘাস। এসব সৌন্দর্য দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।

আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদের ইমাম বলেন, শুকরিয়া আল্লাহতালার যে আমি একজন নগণ্য গোলাম হয়ে হেদায়েতের কথা সবাইকে বলতে পারব, এটা আমার কাছে অনেক বড় দায়িত্ব মনে হয়। আর ঐতিহ্যবাহী আল আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদে আমি যে খতিব হিসেবে দায়িত্বে আছি এজন্য আমার কাছে অনেক ভালো লাগে আলহামদুলিল্লাহ।
মসজিদের পাশেই ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার জন্য কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে পাঠাগার ও শৌচাগার। সেই সঙ্গে মসজিদের প্রবেশ পথের দুই সিঁড়ির পাশে কাঁচে ঘেরা অটো ফিল্টার করা পানি দিয়ে অজু করার ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া ইতালি ও ভারত থেকে আনা উন্নতমানের মার্বেল পাথরসহ কাঠের কারুকাজে মসজিদের বিভিন্ন স্থানকে আকর্ষণীয় করতে নান্দনিক নকশার কাজের যেন কমতি নেই কোথাও। মসজিদটিতে প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের মোয়াজ্জেম বলেন, এত সুন্দর মসজিদে এসে আমি যখন ফজরের আযান দেই, আমার কাছে এত ভালো লাগে যা কাউকে বোঝানো সম্ভব না।
রাত এলেই আলোর ঝলকানিতে অপরূপ অবয়বে শোভিত হয় মসজিদটি। চতুর্দিকে রং-বেরঙের আলোকসজ্জা দূরের দর্শনার্থীকেও আকৃষ্ট করে। মসজিদের ভেতেরও রয়েছে একাধিক ঝাঁড়বাতির আলো। বেশ দূর থেকেই মসজিদের গম্বুজ ও নির্মাণাধীন মিনার দু্টি দৃষ্টি কাড়ে। রাতের বেলা এক অন্যরকম আবহের সৃষ্টি হয়। আর পরিবেশ ও আঙিনা— সব মিলিয়ে বেশ শান্ত ও মনোরম।

আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী যে কোনো দর্শককে মুগ্ধ করবে। বিশেষ করে মসজিদের সম্মুখের উচ্চ দুটি সিঁড়ি এবং ব্যতিক্রমী প্রবেশপথ ও প্রধান ফটক যে কারও দৃষ্টি কাড়ে।