সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের রবিউলের দাফন সম্পন্ন

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গার রেমিট্যান্স যোদ্ধা রবিউল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রবিউলের নিথর দেহ পৌঁছায় তার নিজ গ্রাম নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গায়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর থেকে নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকার শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোর তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমায়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে সকাল ১০টায় মহিষডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত রবিউল ইসলামের বাবা আসলাম আলী ও মা তাদের ছেলের স্মৃতি মনে করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজন হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা।
নিহত রবিউলের স্বজনরা জানান, পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে কয়েক বছর আগে ধারদেনা ও ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রবিউল। সেখানে একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। তার উপার্জনে পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল হতে শুরু করেছিল এবং প্রায় সব ঋণও শোধ হয়ে এসেছিল। এরপর ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে তাকে সৌদি আরবে নেওয়ার জন্য আবারও ঋণ নেন রবিউল। ছোট ভাইকেও নিজের কাছে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কারখানাটির আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান রবিউল ইসলাম।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা। কীভাবে সংসার চলবে এবং কীভাবে লাখ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত পরিবারটি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন রবিউলের পরিবার ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, কৃষক পরিবারের এই সন্তান ধারদেনা করেই বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনও তাদের ব্যাংক ও এনজিওর সব ঋণ শোধ হয়নি। তিনি সরকারের কাছে পরিবারের ঋণ মওকুফ এবং সাবলীলভাবে জীবনধারণের জন্য সহায়তার আহ্বান জানান। পাশাপাশি খাজুরা ইউনিয়নের নিহত অন্য প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, যার মধ্যে একজন নাটোরের রবিউল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৩৪০’ ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।



