পুড়ে ছাই হলো জেলের জমানো ২৫ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের পাঁচটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় মাছ বিক্রি করে বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা ২৫ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে যাওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জেলে মোক্তার উদ্দিন। জমানো ওই টাকা দিয়ে ছোট ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন ছিল বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন শ্যামপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশের কাঁচা ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। পরে গ্রামবাসী প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে পাঁচটি ঘর, ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও সহায়-সম্বল পুড়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোক্তার উদ্দিন বলেন, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে প্রতিদিন মাছ বিক্রি করে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলাম। ঘরের চালে রাখা একটি ড্রামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ছিল। আগুন লাগার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় অর্ধপোড়া অবস্থায় মাত্র সাত থেকে আট লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকি সব টাকা পুরোপুরি পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া উদ্ধার করা আংশিক পোড়া ব্যাংক নোটগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



