রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ তুলে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি চলবে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত।
কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতিও সীমিত দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জরুরি বিভাগের সামনে মানববন্ধন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচারসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকালে একবার ডাক্তার দেখেছি, এরপর আর কাউকে পাইনি।
বাগমারা থেকে আসা নাবিলা আখতার জানান, সকাল থেকে রোগী নিয়ে বসে আছি। কোনো ডাক্তার নেই। চিকিৎসা না পেলে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে ৬০টি ওয়ার্ডে মিড-লেভেলের চিকিৎসকেরা সেবা দিচ্ছেন এবং চিকিৎসায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।
এ ঘটনার পেছনে রয়েছে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। নিহত জুলেখা বেগম (৪৫), রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ঢাকায় কর্মরত সেনাসদস্য ছেলে সোহেলকে মারধর করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে অন্য ইন্টার্নরা এসে তাকে আটক করে রাখেন। এতে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আকরামুজ্জামান জানান, আহত সোহেলকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, রোববারও হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে আরেকজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।