কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে ৩৪ জন ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মহেশখালীর বাসিন্দা সরওয়ার আলমের কন্যাশিশু হিরা মনিকে। ভর্তির পর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। চিকিৎসকরা শিশুটির খাবারের ক্ষেত্রে নিদের্শনা প্রদান করলেও তা মানেননি অভিভাবকরা। শক্ত খাবার গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা তথ্য দিয়েছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার হাসপাতালে ৩৭ জন ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বুধবার নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৩ জন। এ নিয়ে ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাব পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বলা যাবে না।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, কক্সবাজার থেকে বুধবার পর্যন্ত ৭১ জন হামের উপসর্গ থাকা রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। যেখানে ৩০ জন হামের আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে কেউ মারা যায়নি। বুধবার মারা যাওয়া শিশুটির নমুনা প্রতিবেদন পাওয়ার পর মারা যাওয়ার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, বুধবার একটি শিশু মারা গেছে। শিশুটির হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও মুখে ঘা ছিল। তবে মুখে খেতে না পারায় নল দিয়েছিলাম। তবে অভিভাবক ভুলবশত মুখে খাওয়াতে গিয়ে নাকে-মুখে হয়ে শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। বহু চেষ্টার পরও আমরা শিশুটিকে বাঁচাতে পারিনি।
ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, কক্সবাজারে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সব সময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এ ছাড়া আমরা বাড়িতে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।