logo

টমেটোর ভালো দামে খুশি কৃষক, পরিবহন ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী

টমেটোর ভালো দামে খুশি কৃষক, পরিবহন ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী

দিনাজপুরে টমেটোর বাজার এখন ব্যস্ততায় মুখর। সূর্য ওঠার আগেই গর্ভেশ্বরী নদীর তীরঘেঁষা গাবুড়া বাজারে শুরু হয় লাল টমেটোর জমজমাট বেচাকেনা। কৃষকের হাঁকডাক, পাইকারের দরদাম আর শ্রমিকদের দৌড়ঝাঁপে প্রতিদিনই এই এলাকা পরিণত হচ্ছে এক প্রাণবন্ত কৃষি বাণিজ্যকেন্দ্রে। তবে বাজারের এই প্রাণচাঞ্চল্যের মধ্যেও দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকট। পাইকারদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের কারণে সহজে পণ্যবাহী যান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেশি ভাড়া দিয়ে পরিবহন করতে হচ্ছে, এতে বেড়ে যাচ্ছে ব্যবসার খরচ এবং অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের মুখেও পড়ছেন তারা।

দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কের পাশে অবস্থিত এই বাজার এখন শুধু স্থানীয় হাট নয়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কৃষিপণ্য বিপণনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছে। ভোর থেকেই ভ্যানে, মোটরসাইকেলে কিংবা কাঁধে করে খাঁচাভর্তি টমেটো নিয়ে বাজারে আসছেন কৃষকেরা। এরপর জাত, আকার ও মান অনুযায়ী নির্ধারিত হয় দাম।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গর্ভেশ্বরী নদীর তীর থেকে মাস্তান বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়কের দুই পাশে সারি সারি অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। শুধু রাস্তার ধারে নয়, আশপাশের বাড়ির আঙিনাও এখন টমেটো রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে বিপুল প্লাস জাতের টমেটো মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকায়, বিউটি জাতের টমেটোর দামও প্রায় একই। আনসাল জাতের টমেটো বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায়।

এখানে শুধু স্থানীয় নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকাররা আসছেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক পাইকার প্রতিদিন গাবুড়া বাজারে ভিড় করছেন। এখান থেকে টমেটো কিনে ট্রাকে করে দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে।

শরিয়তপুর থেকে আসা পাইকার দবির সরদার বলেন, কৃষকরা তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন। ঢাকায় গিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, আবার পরিবহন খরচও বেড়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার চাকার এলাকার কৃষক মোয়াজ্জেম বলেন, আজ আমি প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি। বর্তমান বাজারদরে আমি সন্তুষ্ট।

নয়নপুর এলাকার কৃষক নাজমুল হুদা জানান, এ বছর ফলন ও দাম, দুই দিক থেকেই তারা ভালো অবস্থানে আছেন। প্রতি মণ টমেটো তিনি ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ৮৬৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে ১ হাজার ১০৮ হেক্টরে পৌঁছেছে। উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ১৩৭ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তার ফলে এবার চাষের পরিমাণ ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ জমির ফসল উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে, বাকি অংশ ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর উৎপাদন আরও বাড়বে এবং কৃষকেরা আরও ভালো ফল পাবেন।