বগুড়ায় বিচারকের এজলাস কক্ষে আইনজীবীদের হট্টগোল

বগুড়ায় নতুন জেলা ও দায়রা জজ পদায়নকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের আন্দোলনে বিচারিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্দোলনকারী আইনজীবীদের হট্টগোল ও স্লোগানের মুখে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান নবনিযুক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান। পরে ডিবি ও থানা-পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর দিনের বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
গত বুধবার থেকে নতুন জেলা ও দায়রা জজের পদায়নের প্রতিবাদে আইনজীবীদের একাংশ আন্দোলন করে আসছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এজলাসে আসন গ্রহণ করেন বিচারক মো. মনিরুজ্জামান। তিনি আসন গ্রহণের পরপরই আন্দোলনকারী একদল আইনজীবী হট্টগোল শুরু করেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনায় অংশ নেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাত্র সাত মিনিট পর বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বিচারক।
পরে ডিবি ও থানা-পুলিশ আদালত চত্বরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একটি পুরোনো নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দেওয়া ওই কারণ দর্শানোর নোটিশে তথ্য গোপন করে এলএলবি ডিগ্রির জন্য আবেদনের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওহাব বলেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি পিপলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত আইন পাস করে নিয়ম মেনেই সনদ ও লাইসেন্স পেয়েছি। ২০১৭ সালের পুরোনো ও মীমাংসিত বিষয় সামনে এনে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলা ও দায়রা জজ নিয়োগের পর সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে তিনি আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন দাবি করে আব্দুল ওহাব বলেন, তাকে হেয় করার জন্যই একটি গোষ্ঠী এসব করছে।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ বলেন, আমি আদালতে ঢুকে বিচারককে পাইনি। তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য আদালতে বসেছিলেন। এ ছাড়া আইনজীবীরা আমাকেও আমার নির্ধারিত আসনে বসতে বাধা দিয়েছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চাই। অন্যথায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
আদালতের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বার ও বেঞ্চের সমন্বয়ে স্বাভাবিক বিচারিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন বলেন, কিছু অসত্য তথ্য ছড়ানো হলেও আদালতের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য থাকার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জেলা ও দায়রা জজ নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই পদায়নকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন চলছে।
এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত বিচারপ্রার্থী কাঙ্ক্ষিত বিচারসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হোক।
বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, নতুন জেলা ও দায়রা জজের পদায়ন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সাধারণ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও আদালত বর্জনের বিষয়ে সমিতি অনড় অবস্থানে থাকবে।
