‘এ প্লাস’ না পাওয়ার হতাশায় ঝরল দাখিল পরীক্ষার্থীর প্রাণ

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় খাদিজা আক্তার (১৬) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে দাগনভূঞা থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত খাদিজা আক্তার উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীর হাট এলাকার আবজল কবিরাজ বাড়ির প্রবাসী আলেক উল্যাহ ও জাহান আরা বেগম দম্পতির মেয়ে। সে স্থানীয় আমু ভূঁঞার হাট হাছানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে সে জিপিএ ৩.২২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তবে তার লক্ষ্য ছিল জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পাওয়া। প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সে চরম হতাশায় ভুগছিল। সোমবার রাতে স্বাভাবিকভাবেই সে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মা ও দাদি নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাননি। একপর্যায়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাদিজাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় খাদিজা নাইলনের দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ হাফিজ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, খাদিজার স্বপ্ন ছিল এ প্লাস পাওয়া। তা না পাওয়ায় তীব্র হতাশা থেকে সে এই চরম পথ বেছে নেয়। তার কক্ষে তল্লাশি চালানোর সময় পড়ার টেবিলে বড় অক্ষরে লেখা দেখতে পাই— 'ড্রীম এ প্লাস' । পরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আমু ভূঁঞার হাট হাছানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার বেলাল হোসাইন।
তিনি বলেন, খাদিজা আমাদের মাদ্রাসার অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার পরীক্ষাও ভালো হয়েছিল। কিন্তু রেজাল্টকে কেন্দ্র করে তার এই আত্মহত্যা অত্যন্ত বেদনার ও হৃদয়বিদারক।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই মাদ্রাসা থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। নিহত খাদিজা জিপিএ ৩.২২ পেয়ে পাস করলেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় মানসিক অবসাদে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌসী বেগম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
.png)


