রাস্তায় পাওয়া ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছে নৈশপ্রহরী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারে কুড়িয়ে পাওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক নৈশপ্রহরী।
বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি টাকাভর্তি ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দেন।
সততার এই নজির স্থাপনকারী মো. নুরুল আলম বাঁচা (৪৪) নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের মাইজ্যা মিয়াজির বাড়ির মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে। তিনি নাজিরহাট পৌরসভায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত।
পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে দায়িত্ব পালনকালে নাজিরহাট বাজারের সোসাইটি মাঠসংলগ্ন সড়কে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান নুরুল আলম। ব্যাগটি খুলে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পেয়ে সেটি নিরাপদে পৌরসভা কার্যালয়ের একটি কক্ষে সংরক্ষণ করেন এবং প্রকৃত মালিকের খোঁজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, টাকাগুলো নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও এম আর জুয়েলার্সের মালিক দুর্লভ ধরের। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়। পরে নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক, ব্যবসায়ী মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে টাকাভর্তি ব্যাগটি দুর্লভ ধরের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আলম বাঁচা বলেন, পরিত্যক্ত ব্যাগটি পেয়ে আমি সেটি পৌর কার্যালয়ের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাই। পরে খোঁজখবর নিয়ে প্রকৃত মালিক শনাক্ত করি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে সবার উপস্থিতিতে টাকাভর্তি ব্যাগটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছি।
নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক বলেন, নুরুল আলম বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমরা টাকার মালিক সম্পর্কে নিশ্চিত হই। পরে উপস্থিত সবার সামনে টাকা গুনে মিলিয়ে দেখে মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। তার সততার স্বীকৃতি হিসেবে ব্যবসায়ী তাকে পুরস্কৃতও করেছেন।
হারানো টাকা ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ী দুর্লভ ধর বলেন, টাকাগুলো হারিয়ে গভীর রাতে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের টাকা ছিল। বর্তমান সময়ে এমন সৎ মানুষ খুবই বিরল। নুরুল আলম সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা সবার জন্য অনুকরণীয়।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই ফেসবুকে লিখেছেন, বাবুনগর গ্রামের এই সন্তান পুরো ফটিকছড়ির জন্য গর্বের। তিনি প্রমাণ করেছেন সততার কোনো মাপকাঠি নেই; পেশায় নৈশপ্রহরী হলেও কর্মে ও চরিত্রে তিনি অনেক বড়। তার এই মানবিক ও সৎ উদ্যোগ সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
