এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা খুনের নেপথ্যে অনলাইন জুয়ায় আসক্তি

ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে খুনের ঘটনায় শামীম ওরফে স্বপন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানিয়েছেন–তারা দুজন পূর্বপরিচিত ছিলেন। তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলার জন্য নাহিদার কাছে টাকা ধার চেয়েছিলেন। ধার না পেয়ে নাহিদাকে খুন করে স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যান শামীম।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে শুক্রবার শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে নাহিদার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শামীম ওরফে স্বপন সাভারের আশুলিয়ার রহিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
নাহিদা আক্তার ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়ায় তার নানির সঙ্গে থাকতেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
খুনি ছিল পূর্বপরিচিত
পুলিশ জানায়, ওই বাসায় নিহত ওই শিক্ষার্থী ও তার নানি থাকতেন। ঘটনার দিন বিকেলের দিকে তার নানি দুধ কিনতে বাইরে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি বাসায় ফিরে আসেন। দরজা খোলা অবস্থায় ভেতরে ঢুকে নাহিদাকে রক্তাক্ত জখম দেখতে পান। এ সময় তার মাথা, গলা ও বুকে কাটা জখম দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে ধামরাই ও সাভারের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নাহিদার কানে থাকা প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের দুল, প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের গলার চেইন, ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি হাতের আঙটি খোয়া গেছে বলে জানায় পরিবার।
গ্রেপ্তার শামীম পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন–ঘটনার দিন পাশের কক্ষ থেকে এসে নাহিদার কক্ষের দরজায় কড়া নাড়েন তিনি। পূর্বপরিচিত হওয়ায় নাহিদা দরজা খুলে দেন। তার কাছে টাকা ধার চান শামীম। অস্বীকৃতি জানালে নাহিদার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে রান্না ঘরের মেঝেতে ফেলে দেন শামীম। তার কাছে থাকা ধারাল চাকু দিয়ে নাহিদার গলা ও বুকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য শিল-পাটার পাথর দিয়ে নাহিদার মাথা ও কপালে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার কাছ থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে শামীম পালিয়ে যান।
খুনের নেপথ্যে অনলাইন জুয়ায় আসক্তি
শামীমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী–তিনি অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত। জুয়া খেলে অনেকের কাছে ঋণী হয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টাকার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। লক্ষবস্তু করেন প্রতিবেশী নাহিদাকে। এর জেরে তিনি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন।
ধামরাই ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, হত্যার পর শামীম ভুক্তভোগীর স্বর্ণ লুট করে। নিহতের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাটা-পোতা জব্দ করা হয়েছে। শামীমের দেওয়া তথ্যমতে–খুনের পর ধারালো চাকুটি ধামরাইয়ের শরীফবাগ এলাকায় নদীতে ফেলে দেন। শরীফবাগ এলাকায় নদীতে ডুবুরি দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে পুলিশ। চাকুটি পাওয়া যায়নি। প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। শামীম আদালতে স্বীকারোক্তি দেবেন জানানোয় তার রিমান্ড আবেদন করা হবে না।
জুয়ার অর্থ সংগ্রহের চেষ্টায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার কথা উল্লেখ করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজেই এই জুয়ায় আসক্তি হওয়া সম্ভব। তাই পারিবারিক পর্যায় থেকে সচেতনতার আহ্বান জানান তিনি।