logo

ফেসবুকে ‘খেলা হবে’ পোস্ট, দুপক্ষের সংঘর্ষে হতাহত ১১

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
ফেসবুকে ‘খেলা হবে’ পোস্ট, দুপক্ষের সংঘর্ষে হতাহত ১১
ছবি: এশিয়া পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ‘খেলা হবে’ পোস্টকে কেন্দ্র সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ইছাকপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত পায়েল মিয়া (১৮) ইছাকপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত আবু সালেকের স্ত্রী তাহেরা বেগমকে (৩২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এক পক্ষের দাবি, তাহেরা বেগম মারা গেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামের আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমানের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে আওয়াল নূরের পক্ষের একজন ফেসবুক ‘খেলা হবে’ লিখে একটি পোস্ট করেন।

ওই পোস্টটি সাইদুর রহমানের পক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে, গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত শুরু হয়।

সংঘর্ষে গ্রামের সাইদুর রহমান গ্রুপের আনোয়ার হোসেনের ছেলে পায়েল মিয়া (১৮) নামের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত আবু সালেকের স্ত্রী তাহেরা বেগমকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে।

সাইদুর রহমান পক্ষের আমির মিয়া বলেন, দুদিন ধরেই আওয়াল নূর পক্ষের লোকজন মারামারি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি আমরা পুলিশকেও জানিয়ে রেখেছিলাম। আজকে হঠাৎ করে আমাদের ওপর আওয়াল নূরের লোকজন আক্রমণ করে। এতে আমাদের দুজন মারা গেছে।

তবে আওয়াল নূরের পক্ষের দাবি তাদেরকে হয়রানি করা ও ফাঁসানোর জন্য সাইদুর রহমানের লোকজন নিজেরাই নিজেদের লোক মেরে ফেলেছে।

আওয়াল নূর অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাড়ি নদীর ওই পাড়ে। আমরা মারামারির বিষয়ে কিছুই জানি না। এখন হঠাৎ শুনি আমাদের বিপক্ষের গ্রুপের নাকি দুজন মারা গেছে। এর আগে ২০০৪ সালে সাইদুর রহমানের লোকজন নিজেদের একজনকে নিজেরাই খুন করেছিল, পরবর্তীতে তা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, আমাদের গ্রামে একপক্ষ নিজেরা তাদের নিজেদের লোক মেরে ফেলেছে। ২০০৪ সালে তারা একজন নারীকে মেরেছিল। পরে পুলিশের তদন্তে সেটা প্রমাণিত হয়েছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, এই গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা ও মামলা মোকদ্দমা চলছে। আজকে একটা ঝামেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার জানান, দুদিন ধরেই গ্রামটিতে উত্তেজনা বিরাজ করায় তাদের সাবধান হওয়ার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি। শোনা যাচ্ছে দুজন মারা গেছে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুকিবুজ্জামান বলেন, এই গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উত্তেজনা বিরাজ করায় গতকাল সারাদিন গ্রামে পুলিশ ছিল। আজকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গ্রামটি দুর্গম এলাকায়, পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, শাল্লার ইছাকপুর গ্রামে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিত খুনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। মামলা হলে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।