logo
Advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চল প্লাবিত; বন্যাকবলিত এলাকা থেকে নৌকায় করে গবাদিপশুর খড় নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে এবং সাড়ে ৫৬ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনে পদ্মায় ৪৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মার পানি রেকর্ড করা হয় ২১.৭৬ মিটার, যা বিপৎসীমার (২২.০৫ মিটার) মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচে।

একই দিনে মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ১৯.৪৩ মিটার (বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার) এবং পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে ১৯.৪৬ মিটার (বিপৎসীমা ২১.৫৫ মিটার)। পাউবো জানিয়েছে, তিনটি নদীতেই পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

নদীগুলোর পানি বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ও আলাতুলি ইউনিয়নে ৫০০ পরিবার এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে ১ হাজার, উজিরপুর ইউনিয়নে ২৫০ ও দুর্লভপুর ইউনিয়নে ২৫০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

পাঁকা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা নোমাব আলী বলেন, চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। ঘরবাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। গবাদিপশু আর ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি।

পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, তাঁর ইউনিয়নের ৬-৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং অন্তত সাড়ে তিনশ পরিবারের বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। আপাতত পানি বৃদ্ধি স্থগিত থাকলেও সামনে বন্যা বড় রূপ নিতে পারে বলে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পেলেই দুর্গতদের মাঝে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বন্যার কারণে সদর উপজেলার ২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় সেগুলোতে সাময়িক পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার ৫টি উপজেলায় ৫৬.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১.৫ হেক্টর মাসকলাই, ১৪.২ হেক্টর শাকসবজি, ৪ হেক্টর রোপা আমন, ৩.৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলাসহ আউশ ধান ও হলুদ রয়েছে।