logo

সারা দেশে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

সারা দেশে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
চট্টগ্রামে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছবি: এশিয়া পোস্ট

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে সাতটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির খবর পাওয়া গেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এর আগে দাবি বাস্তবায়নে শুক্রবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় শনিবার (৬ জুন) রাতে সারা দেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বাতিল, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা, বিএমডিসি আইন সংস্কার এবং বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। এর আগে গত ৪ জুন হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রোববার বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন।

কর্মবিরতির পাশাপাশি রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে সারা দেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়ে তারা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা কর্মবিরতির পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক রাব্বি ইসলাম বলেন, আমরা রোগীদের দুর্ভোগ চাই না। তবে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই দাবি আদায়ে এই কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগ, সংকটাপন্ন রোগী এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কর্মবিরতির খবরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নাটোর থেকে আসা রোগীর স্বজন রাবেয়া খাতুন বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারও মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কর্মবিরতির কারণে রোগীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

পাবনা থেকে আসা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত রাখতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যেও মিড-লেভেল ও সিনিয়র চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে হাসপাতাল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

খুলনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
খুলনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ছয় দফা দাবিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েগন এবং বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। সকালে বিক্ষোভের পর বেলা ৩টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগীরা।

হাসপাতাল পরিচালক বলেছেন, তাদের অনেক দাবি যৌক্তিক, কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের সেবা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজের সঙ্গে আমি একমত নই। এটা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ছয়দফা দাবিতে চার দিন ধরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার দুপুর ১২টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তিন শতাধিক চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আল আমিনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. তৌফিক হাসান, ডা. হাফিজুল হক, ডা. সানজিদা আফরোজ, ডা. অশ্রুত বসু হৃদ্য, ডা. এস এম শামসুল ইসলাম, ডা. জয়ী ঘোষ, ডা. তাহমিদ এম তাওসিফ নূর, ডা. মো. ফেরদৌস আহমেদ, ডা. পুষ্পিতা দাশ সৃষ্টি, ডা. মারিয়া ইসলাম মিতু, ডা. তামান্না তাবাসসুম লামিয়া, ডা. প্রত্যয় রায়, ডা. মানস মল্লিক কাঁকন, ডা. নিলয় বিশ্বাস, ডা. এস এম রাহাত সাকির, ড. তরফদার মো. ফয়সাল, ডা. রিপন চন্দ্র পাল, ডা. মো. মেহেদী হাসান কুসুম, ডা. প্রতাপ কুণ্ডু জয়, ডা. মো. মিরাজ পারভেজ প্রমুখ।

বিক্ষোভ থেকে সংগঠনের সভাপতি ডা. শেখ আলামিন বলেন, এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত সরকারের কিছু ভুল নীতি সংশোধনের দাবিতে আমরা সুনির্দিষ্ট ছয় দফার দাবিতে যৌক্তিক আন্দোলন করছি। কয়েক দিনের কর্মসূচিতে এর সমাধান না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে।

এদিকে বিকেলে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেয় বেসরকারি পোষ্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। শতাধিক শিক্ষার্থী-চিকিৎসক স্মারকলিপি দেন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

হাসপাপতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনেক দাবির সঙ্গেই একমত, তবে হাসপাতালের সেবা বিঘ্নিত হয় এমন আন্দোলন-কর্মসূচি না দিতে তাদের অনুরোধ করেছি। এখন মিড-লেভেল ট্রেনিং চিকিৎসক যারা বেসরকারি অথচ এখানে উচ্চ শিক্ষা-ট্রেনিং করছে, তারাও আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে এবং স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু আমি তাদের স্পষ্ট বলেছি, রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এমন কোনো কর্মসুচি নেওয়া যাবে না যাতে সাধারণ রোগীদের কষ্ট হয় এবং তাদের চিকিৎসা বিঘ্নিত হয়। আমি তাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা সাফ জানিয়ে দিয়েছি।

এদিকে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট ২ এবং সার্জারি ৯-১০ ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং এইচএমও না থাকায় ভর্তি রোগী রিসিভ থেকে শুরু করে চিকিৎসায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। সহকারী রেজিস্ট্রার কয়েকজন থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

বাগেরহাট থেকে আসা ইলিয়াস মোল্লা নামে এক রোগী বলেন, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অনেকক্ষণ কোনো সেবা পাইনি। বলে আন্দোলন চলতেছে, আর যে ডাক্তার আছেন তিনিও খেতে গেছেন। তাই অক্সিজেন দিয়ে কোনোরকম ছিলাম। পরে একজন চিকিৎসক আসেন।

বরিশালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বরিশালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোববার দুপুর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে ক্লাস-পরিক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

দাবি দ্রুত সময়ে মেনে নেওয়া না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গন প্রদক্ষিণ করে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন।

ময়মনসিংহে বরিশালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
ময়মনসিংহে বরিশালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোববার দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে হাসপাতাল পরিচালক বরাবর ছয় দফা দাবি পেশ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক নেতারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরাও কর্মবিরতি পালন করছি। আমরা দাবি আদায়ে আন্দোলন করলেও দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি মেলেনি। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে থাকলেও চিকিৎসাসেবায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগসহ হাসপাতালের অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়ায় বরিশালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বগুড়ায় বরিশালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রোববার সকাল থেকে তারা কর্মবিরতিতে যান। কর্মবিরতির পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি অঘোষিত নোটিশের প্রতিবাদে এবং ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা একযোগে কর্মবিরতিতে গেছেন। আমাদের ভাতা ৩০ হাজার টাকা এবং মিড-লেভেল ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে বিসিপিএসের পরীক্ষার ফি কমানো এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিক।

ইন্টার্ন চিকিৎসক উপমা বলেন, আমাদের পেশা সেবামূলক। আমরা চাই না আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ুক। কিন্তু চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হচ্ছেন। তাদের সুরক্ষার জন্য এখনো কার্যকর কোনো আইন হয়নি। আমরা সেবা দিতে প্রস্তুত, তবে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাফিউন জান্নাত বলেন, আপাতত কর্মবিরতি ও আন্দোলন চলবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে দেশব্যাপী সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ

রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্ন করেন রাঙামাটি সদর হাসপাতালে। রোববার দুপুরে সদর হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে ইন্টার্ন ডক্টরস কমিউনিটি। সেখান থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন ডক্টর কমিউনিটি আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন, ইন্টার্ন চিকিৎসক সালমা প্রিম অমি এবং ইন্টার্ন ডক্টরস কমিউনিটির রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের সভাপতি ডা. মো শাপকাতুল ইসলাম।

মিনহাজুল আবেদিন বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন, বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরিক্ষার বয়সসীমা বৃদ্ধিসহ সরকারে কাছে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু তার কোনো আগ্রগতি নেই। উল্টো আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যতদিন আমাদের দাবি আদায় না হবে, ততদিন আমরা সকল ধরণের চিকিৎসাসেবা প্রদান থেকে বিরত থাকব।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মসূচিতে যোগ দেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সকল শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দেন।

[প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, বগুড়া ও রাঙামাটি প্রতিনিধি]