পাবনা/মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে মাথা ও বুকে কাফনের কাপড় জড়িয়ে প্রকাশ্যে শটগান হাতে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা দাবি করা ওই যুবকের অস্ত্রের মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি অস্ত্রসহ থানায় গেলে পুলিশ তাকে নিজ হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তার অস্ত্রের লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত জুবায়ের হোসেন বাপ্পি ঈশ্বরদী শহরের মশুড়িয়াপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপির একটি অংশের সমর্থক এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া তিনি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাথা ও বুকে সাদা কাফনের কাপড় জড়ানো অবস্থায় বাপ্পি হাতে শটগান নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের প্রধান সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি শহরের রেলগেট ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তার সঙ্গে দাশুড়িয়ার বিএনপি নেতা সুলভ মালিথাকে দেখা যায় এবং তাদের পেছনে মোটরসাইকেলে একাধিক যুবক ছিলেন। পরবর্তীতে বাপ্পি শটগান উঁচিয়ে সরাসরি থানার দিকে চলে যান।
এদিকে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে গোলাম রাব্বি নামের এক ব্যক্তি জানান, সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বাসটার্মিনালে অবস্থান করছেন জানতে পেরে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিনের নির্দেশে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি, সুলভ মালিথা ও ইমরুল কায়েস সুমন আগ্নেয়াস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে মশুড়িয়াপাড়া বকুলের মোড় থেকে থানা হয়ে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত মহড়া দেন। এ সময় তারা মেহেদী হাসানের নাম ধরে গালিগালাজ করে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকায় এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুবায়ের হোসেন বাপ্পির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ওই যুবক অস্ত্র জমা দিতে থানায় এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন এবং তার প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির অপর অংশের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভকালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম ও প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। আমাকে এবং বিএনপি নেতা তথা পাবনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলে আসছিলেন তিনি।
মেহেদী হাসান আরও বলেন, আজ সেই পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব ও মহড়া দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করব।
বিক্ষোভ চলাকালে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ থানার সামনে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ চলছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমগ্র ঈশ্বরদী শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।



