সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা: কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্য করা হয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে চার বছরের এক শিশু এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে। দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক জানান, ঘটনার সময় মহাসড়ক ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া গতি কিংবা চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই দুর্ঘটনার আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্বের শিকার ব্যক্তিদের ৩ লাখ টাকা এবং আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতদের ১৫ হাজার টাকা অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য স্বজনদের কাছে ২০ হাজার টাকা করে হস্তান্তর করা হয়েছে।
