৪ দিন পরও সন্ধান মেলেনি কারিগরি বোর্ডের হারানো ১০০ উত্তরপত্রের

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের মূল্যায়নের জন্য আনা প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে ফেলেন ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত খাতাগুলোর কোনো সন্ধান মেলেনি। হারিয়ে যাওয়া এসব উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন ও ফলাফলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক পারিজাত দেবনাথ গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য নিয়ে আসেন। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে শহরের মহিপাল থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মোড়ে আসার পথে তিনি ভুলবশত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় খাতাগুলো ফেলে রেখেই নেমে যান। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করেও উত্তরপত্রগুলোর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরদিন সোমবার পলিটেকনিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক মো. মেহেদী হোসাইন নিজ ফেসবুক আইডিতে খাতা হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি ১০০টি উত্তরপত্র পাওয়ার বিনিময়ে উপযুক্ত সম্মানি দেওয়ার কথা জানিয়ে যোগাযোগ নম্বর দেন। তবে পরে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পোস্টটি মুছে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক পারিজাত দেবনাথের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহেদুল কবির খান এশিয়া পোস্টকে জানান, রোববার সকালে অটোরিকশায় আসার সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক পারিজাত দেবনাথ ভুলবশত উত্তরপত্রগুলো হারিয়ে ফেলেন। উত্তরপত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, খাতা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার সময়কার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি সিএনজি লাইনম্যান ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।