logo
Advertisement

বান্দরবানে ১৭৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
বান্দরবানে ১৭৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
ছবি: এশিয়া পোস্ট

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। জেলার মোট ৪৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৫টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে একদিকে যেমন স্কুলগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

Advertisement

শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠ মূল্যায়ন, প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং শিক্ষার সার্বিক মান ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি এই শিক্ষক সংকট পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক নতুন ও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কম। কোনো কোনো স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের পড়াশোনা ও চূড়ান্ত ফলাফলে।

বান্দরবান শহরের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, এমনিতেই দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বান্দরবানের শিক্ষার অবস্থা কিছুটা পিছিয়ে। তার ওপর অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই রয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট। একটি বিদ্যালয়ে যদি প্রয়োজনীয় শিক্ষকই না থাকে, তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো ফল আশা করা কঠিন। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা এমনিতেই নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

রুমা উপজেলার বাসিন্দা মংচিং মারমা জানান, রুমার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যেতে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। তার ওপর বিদ্যালয়ে শিক্ষক কম থাকলে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও কমে যায়। পাহাড়ি এলাকার শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এসব বিদ্যালয়ে অবিলম্বে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, আলীকদমের অনেক বিদ্যালয়ই চরম দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। শিক্ষক সংকটের কারণে এখানকার শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই চলবে না, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত উন্নয়ন উদ্যোগগুলো পুরোপুরি সফল হবে না।

এ বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিনয় চাকমা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয় ও পাঠদান তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন কোনো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।

তিনি আরও জানান, শিক্ষক সংকটের এই বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আবারও গতিশীল হবে।