logo

৮০১ জন যাত্রী নিয়ে থমকে আছে ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’

৮০১ জন যাত্রী নিয়ে থমকে আছে ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’

সকালের রোদ গায়ে মেখে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটে চলা। কারও হয়তো প্রিয়জনের কাছে ফেরার তাড়া, কারও বা অফিসের কাজ। কিন্তু ফেনী স্টেশনে এসে হঠাৎ থমকে গেল সব গতি। ইঞ্জিনের ধোঁয়া আর যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকা পড়ল ৮০১ যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যখন ফেনী স্টেশনে প্রবেশ করছিল, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। ইঞ্জিনের ‘ট্যাবলেট কভার’ থেকে বের হতে শুরু করে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়ায় নিজের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন সহকারী লোকোমাস্টার মোহাম্মদ কাওসার।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিন সচল করার আপ্রাণ চেষ্টায় ধোঁয়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন কাওসার। মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে তার মুখমণ্ডল, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্বাসনালি। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী জেনারেল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। রেলের চাকা সচল রাখতে গিয়ে তার এই অসুস্থতা সহকর্মী ও যাত্রীদের মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে।

অসুস্থ কাওসারকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ধোঁয়ায় রেলকর্মীর শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ট্রেনটি থেমে থাকার প্রতিটি মিনিট যাত্রীদের জন্য হয়ে উঠেছে ঘণ্টার সমান। কেউ অস্থির হয়ে পায়চারি করছেন, কেউ বা ট্রেনের দরজায় বসে অপলক তাকিয়ে আছেন রেললাইনের দিকে-কখন আসবে উদ্ধারকারী ইঞ্জিন?

যাত্রী মোস্তফা কামালের কণ্ঠে ঝরে পড়ছিল সেই অনিশ্চয়তার সুর, অনেকক্ষণ ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। জানলাম ইঞ্জিনে সমস্যা। এখন অপেক্ষা ছাড়া আর কোনো পথ নেই আমাদের। অনেক যাত্রী নিরুপায় হয়ে টিকিট ফেরত দিয়ে চোখের জল মুছে সড়কপথের সন্ধানে স্টেশনের বাইরে পা বাড়িয়েছেন।

ফেনী স্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ হারুন বারবার মাইকিং করে যাত্রীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছেন। লাকসাম থেকে একটি উদ্ধারকারী ইঞ্জিন আসছে, এটিই এখন আটকা পড়া ৮০০ যাত্রীর একমাত্র ভরসা বলে জানান তিনি।