Advertisement

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ/মা ও দুই বোনের জমির সীমানাপ্রাচীর ভাঙলেন ভাই

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
মা ও দুই বোনের জমির সীমানাপ্রাচীর ভাঙলেন ভাই
সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের মোহনপুর মৈশান বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ মা ও দুই বোনের জমির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আনিছুর রহমান খোকন নামে এক হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর ধরে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহম্মদ মৈশানের স্ত্রী মফুজা আক্তারের ভরণ-পোষণের কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না তার ছেলে আনিছুর রহমান খোকন। উল্টো পারিবারিক জমি ও দোকানপাট থেকে প্রাপ্ত আয়ের সম্পূর্ণ অংশ তিনি একাই ভোগ করছেন। ফলে মফুজা আক্তার তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসার খরচের জন্য দুই মেয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা একাধিকবার শালিসে বসলেও খোকন অধিকাংশ শালিসেই উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি আমিন এনে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রোববার রাতে নির্ধারিত সীমানা উপড়ে ফেলেন খোকন। এ ছাড়া বোনদের অংশের জায়গায় জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায়, গাছ কেটে নেওয়া এবং বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মফুজা আক্তারের বড় মেয়ে মাকসুদা আক্তার ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার দেবিদ্বার সাহারপাড় গাউসুল আযম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।

ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার জানান, শালিসের সিদ্ধান্ত অনুসারে ওয়ারিশদের নামে সম্পত্তি খারিজ করা হয়। এরপরও আনিছুর রহমান খোকন আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় জয়ী হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে পুনরায় শালিস অনুষ্ঠিত হয় এবং খোকনকে মিলেমিশে থাকার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবারও বিরোধ সৃষ্টি করেন।

তিনি আরও জানান, মা ও বোনদের নিরাপত্তা এবং শালিসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাতাঘাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ছাদেকুর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করান। কিন্তু দুই দিনের মাথায় রাতের আঁধারে সেই দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়।

বড় মেয়ে মাকসুদা আক্তার অভিযোগ, ছোট বোন কর্মস্থলে থাকলে মা বাড়িতে একা থাকেন। এর আগেও খোকনের স্ত্রী মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন এবং প্রায়ই গালিগালাজ করেন। এতে তারা মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান খোকন বলেন, আমার চার বছরের বাচ্চা বাথরুমে যেতে পারছিল না। সীমানাপ্রাচীর থাকায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল, তাই আমি নিজেই দেয়ালের একটি অংশ ভেঙেছি। বাথরুম সরানোর জন্য তারা আমাকে কোনো সময় দেয়নি।

এ বিষয়ে বাতাঘাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ছাদেকুর রহমান বলেন, আমি নিজেই দেয়াল নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যারা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে এখনও আমার কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :