গোলাম আজমের ফর্মুলায় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের দেওয়া কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা ফর্মুলায় দেশে কয়েকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তবে পাঁচ বছর পরপর একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে না পারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইজ্জত উল্লাহ বলেন, গোলাম আজম সাহেব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন। তিনি কেয়ারটেকার সরকার ফর্মুলা দিয়েছিলেন। সেই ফর্মুলায় ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া গিয়েছিল এবং জনগণের আস্থা অর্জিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালে বিনা ভোটে নির্বাচন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে এবং ২০২৪ সালে নির্বাচন হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। এসব নির্বাচন সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরেকটি সরকার ক্ষমতায় আসার ব্যবস্থা এখনো গড়ে তুলতে পারিনি। দেশ পরিচালনা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মতো যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পরিচালিত হয়েছে। ব্রিটিশরা ১৯০ বছর এবং পাকিস্তান ২৪ বছর এ অঞ্চল শাসন করেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতেও পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে তা হয় না। এর কারণে সামরিক শাসন, গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক মানুষের রক্তপাত হয়েছে।
দেশের অর্থ পাচার ও দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে। শুধু রাজনীতিবিদ নন, অসৎ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজ আমলাদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ডাক্তার, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য থাকলেই হবে না। দেশ পরিচালনার জন্য সৎ, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। সংসদ, মন্ত্রিসভা, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে ও শহর শাখার সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, ফুল, বই, কলম, প্যাড ও বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ছবি তোলার ব্যবস্থা এবং সংগঠন ও সমাজ গঠনে মতামত নেওয়ার জন্য ‘পরামর্শ বোর্ড’ রাখা হয়।