logo

জাবি শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

জাবি শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহানকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে অভিযুক্তকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে সাভারের ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত শারমীন জাহান খাদিজা (২৫) চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। শারমীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। অন্যদিকে গ্রেপ্তার ফাহিম আল হাসান কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে। সে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মোবাইল ফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে শারমীন গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তাকে বাসায় আসতে বলেন। খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মনিরুল শারমীনকে খাটের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় শারমীনকে সাভারে বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শারমীনের কপালের ডান পাশে, মাথার উপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখতে পান। শারমীনের স্বামী ফাহিম আল হাসান অজ্ঞাতনামাদের সহায়তায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শারমীনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার পরপরই নিহত শিক্ষার্থীর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে রোববার রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার সকালে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন পৃথকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।

জাকসুর সহসভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, শারমিনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা, সে সঙ্গে বাসা থেকে ল্যাপটপ ও ফোন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে।