পদ্মায় নৌ পুলিশকে গুলি, মূলহোতা ‘চিকন আলীম’ গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার পদ্মা ও গড়াই নদীর মোহনায় নৌ পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও কুখ্যাত চরমপন্থি নেতা কালুর সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুল আলীম ওরফে চিকন আলীমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (২ মে) রাত ১২টার দিকে র্যাব-১২-এর পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার বিকেলে ডিএমপির কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৪ এলাকার পুলিশ কোয়ার্টারের সামনে থেকে র্যাব-১২ ও র্যাব-৩-এর একটি যৌথ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত চিকন আলীম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দয়ারামপুর ঘোষপাড়া গ্রামের বেলায়েত ওরফে বিলাইয়ের ছেলে।
র্যাব জানায়, নৌ পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের অভিযানিক দল ঢাকায় অভিযান চালায়। মিরপুর-১৪-এর একটি ফুট ওভারব্রিজের নিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন ধরে কুমারখালী, খোকসা ও পদ্মা নদী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে পলাতক চরমপন্থি নেতা কালুর পক্ষে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার এশিয়া পোস্টকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কুমারখালী-খোকসা এবং পদ্মা নদী এলাকায় কালুর নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল আলীম। পুলিশের ওপর হামলার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আসছিল। গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে, গত ২২ এপ্রিল রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে যায় লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের একটি দল। সে সময় ৮-৯ জন দুষ্কৃতকারী স্পিডবোটে এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে শর্টগান দিয়ে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ হামলায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ চার পুলিশ সদস্য এবং নৌকার মাঝি গুরুতর আহত হন।