প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল শেরপুরের ‘শতবর্ষী’ বটগাছ

শেরপুর সদর উপজেলার একটি ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন প্রাচীন বটগাছ বিক্রির উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। গাছটি শতবর্ষী বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঈদগাহ মাঠ সংস্কারের অংশ হিসেবে মাঠের পাশে থাকা শতবর্ষী বটগাছটি বিক্রির বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঈদগাহ কমিটির সদস্য শাহরিয়ার শামীম তার ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে গাছটি বিক্রি ও না কাটার দাবি জানানো হয়।
পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে এলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনার পর ইউএনও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাছ বিক্রি ও কাটার কার্যক্রম বন্ধ করেন।
এ বিষয়ে সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচারের (সোয়ান) সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক মনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন। এমন একটি সময়ে শতবর্ষী একটি গাছ বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, এটি পরিবেশ সংরক্ষণের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন, সংশ্লিষ্টদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কোনো অবস্থাতে বটগাছটি কাটা যাবে না। কমিটির সদস্যরাও গাছটি সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছটির বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং গাছটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।






