মসজিদের কাজের হিসেব নিয়ে কথা বলায় শিক্ষককে মারধর

ভোলার মনপুরায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে কথা বলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুজ জাহেরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচা কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুজ জাহের কাজটি দায়িত্ব নিয়ে করার জন্য বিল্লালকে অনুরোধ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক জাহেরকে অপমানজনক কথা বললে তার ছেলে সুমন ও নুর হোসেন প্রতিবাদ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর যুবদল সদস্য বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার, সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন মিলে জাহের মাস্টার ও তার ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জাহের মাস্টার রক্তাক্ত হয়ে আহত হন। হামলার সময় তার পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার শিকার ৪১ নং দক্ষিণ রহমানপুর (১৫০০) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এই ঘরের উন্নয়নে শরিক হওয়া সবার দায়িত্ব। আমার ছেলে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে দুদিন মসজিদের কাজে শ্রম দিয়েছে। মসজিদের খরচ নিয়ে বিল্লাল প্রশ্ন তুললে আমি শুধু বলেছি, তুমি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলেই তো হতো। এ কথার জেরেই আমাদের ওপর ও আমার ছেলেদের ওপর মব সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে এবং পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় হামলাকারীরা আমার দুই ছেলে সুমন ও নুর হোসেনকেও মারধর করেন। এক পর্যায়ে জুমার নামাজ শেষ না করেই মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে হয়। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাহের মাস্টারের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত ও অনুতপ্ত। জাহের মাস্টার আমাদের মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। এ ঘটনায় আমরা দুঃখিত।
মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, একজন সহকারী শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাদের ওপর এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, একজন শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

